বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

একআসনের বিপরীতে দুই টিকেট যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৫ Time View
একআসনের বিপরীতে দুই টিকেট যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা
একআসনের বিপরীতে দুই টিকেট যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

আখাউড়া পৌর এলাকা কলেজ পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আবু হানিফ ভুঁইয়া বিভিন্ন কাজে প্রতি মাসে ৪-৫ বার ঢাকা আসা-যাওয়া করেন। তিনি ঢাকা থেকে আখাউড়া আসতে বেশিরভাগই তিতাস কমিউটার ট্রেনে চড়েন।

আবু হানিফ ভুঁইয়ার অভিযোগ, কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, যে স্টেশন থেকেই ওই ট্রেনে করে আসতে দু’টি টিকিট কাটতে হয়। এর মধ্যে একটি আসনসহ আর আরেকটি আসনবিহীন। আসনসহ টিকিট নিতে আসনবিহীন টিকিট কেনা মাসের পর মাস যাবত বাধ্যতামূলক করে রাখা হয়েছে বলে জানালেন আবু হানিফ ভুঁইয়া।

গত ১৯ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি তিতাস কমিউটার ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ফিরছিলেন বাংলাদেশ বুলেটিনের আখাউড়া প্রতিনিধি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে টিকিট কাটার সময় বলা হয় দু’টি টিকিট নিতে হবে। আসনসহ টিকিটের জন্য আসন ছাড়া টিকিট নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে বলা হয়, ‘পারলে কিছু করেন।’

তিতাস কমিউটার ট্রেনে ঢাকা থেকে ফিরতে কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে গেলে প্রত্যেক যাত্রীকে একজনের বিপরীতে দু’টি টিকিট কাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি টিকিট আসন নম্বরসহ দেওয়া হয়। আরেকটি টিকিটে কোনো আসন লেখা থাকে না। একজনের বিপরীতে দু’টি দেওয়া টিকিটের একাধিক প্রমাণ বাংলাদেশ বুলেটিন প্রতিনিধির হাতে রয়েছে এবং প্রতিনিধি নিজেও ভুক্তভোগী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী যাত্রী এ নিয়ে একাধিক পোস্টও করেছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারি সিদ্ধান্তে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেন কর্তৃপক্ষ সে সিদ্ধান্তকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। একে তো সিটের বিপরীতে আসনবিহীন বাড়তি টিকিট কাটতে হয় পাশাপাশি আসনবিহীন টিকিটও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। এভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিদিনই হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ টাকা। তিতাস কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টি এম ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। আখাউড়া-ঢাকা, ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা, ঢাকা-আখাউড়া পথে মোট চারবার যাতায়াত করে ট্রেনটি।

ট্রেনে মোট ১৩টি বগি সংযুক্ত আছে। ট্রেনটিতে উল্লেখিত চারবারে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ হাজার যাত্রী যাতায়ত করেন। আখাউড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ ট্রেনটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা ঢাকায় চাকরি করেন কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ এ ট্রেনে চড়েন বেশি।

ট্রেনটির আখাউড়া-ঢাকা-আখাউড়া পথের ভাড়া মাত্র ৭০ টাকা। যেখানে আন্ত:নগর ট্রেনে চড়লে দ্বিগুন ভাড়া গুণতে হয়। কালোবাজারিদের কাছ থেকে কিনতে গেলে সেটা গিয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয়। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ম‚লত ঢাকা থেকে ফিরতে হলেই তাঁদেরকে টিকিটের এ গ্যাঁড়াকলে পড়তে হয়। চাহিদা বেশি থাকার কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে একজনের বিপরীতে দু’টি টিকিট কাটেন। নিয়ম না থাকলেও যাত্রীদেরকে আসন ছাড়া টিকিট দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রেনে বসে যাত্রীদের সাথে কথা হলে যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের আরো একটি অনিয়মের কথা জানিয়েছেন। সেটি হলো, ঢাকা থেকে ফেরার পথে পরবর্তী কাছের স্টেশনগুলোর আসনসহ টিকিট খুব কম বরাদ্দ রাখা হয়। এক্ষেত্রে কেউ কাছের স্টেশনে নামতে চাইলেও ওই স্টেশনের টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবা আখাউড়া পর্যন্ত টিকিট কাটেন। ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ার পর তেজগাঁও, বিমানবন্দর, নরসিংদী, মেথিকান্দা, ভৈরব, আশুগঞ্জসহ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে।

যাত্রীরা জানান, কমলাপুর ও বিমানবন্দরের কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে গেলে অনেক সময় শুরুতেই ৭০ টাকার বদলে ১৪০ টাকা চাওয়া হয়। যারা ভাড়া সম্পর্কে জানেন তাঁরা প্রতিবাদ করলে অশোভন আচরণ করেন কিংবা টিকিট নাই বলে জানিয়ে দেন। আর যারা জানেন না তাঁরা ওই দামেই টিকিট ক্রয় করে ফেলেন। টিকিট নেওয়ার পর একটি আসনসহ ও আরেকটি আসনবিহীন দেখে ভ্যাবাচেকা খান। অন্যদের কাছ থেকে অলিখিত নিয়মের বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবার সমাজকর্মী মো. লোকমান হোসেন পলাশ নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, গত সপ্তাহেই তিনি ঢাকা থেকে ফেরার পথে দু’টি টিকিট কাটতে বাধ্য হন। ট্রেনে উঠতে জানতে পারেন প্রত্যেক যাত্রীকেই একটির বদলে দু’টি করে টিকিট কাটতে হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মেসার্স টি এম ট্রেডার্স এর স্বত্তাধীকারী মো. সালাউদ্দিন রিপনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

-চি/নাবিলা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Copyright © All rights reserved © 2022 Jagoroni Tv
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com