শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

মণ্ডপে যে কুরআন রেখেছে সে একজন মাদকসেবী: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ১০ Time View
মণ্ডপে যে কুরআন রেখেছে সে একজন মাদকসেবী: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
মণ্ডপে যে কুরআন রেখেছে সে একজন মাদকসেবী: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, মণ্ডপে যে পবিত্র কুরআন শরিফ রেখেছে, সে একাই আসামি হবে না। কারণ, সে একজন মাদকসেবী। তার কোনো স্বার্থ নাই ওইটা এখানে রাখার। হয়তো তাকে কেউ ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকা দিছে। মাদকসেবীর কাজই তো তাই, পাঁচ টাকা পাইলেও রডের মাথা ভাইঙ্গা-টাইঙ্গা নিয়া যাইয়া বিক্রি করে, হেরোইন কিনা খায়। তাকে সেই ব্যবহারটা করেছে, কারা করেছে ব্যবহার? সব তথ্যই বেরিয়ে এসেছে।’

রোববার রাত ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সেমিনারে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চাই। এটি সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবেই সারা দেশে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ হবে না।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন এই সেমিনারের আয়োজন করে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা, রাজনীতিক ও সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি নিজেও বলেছি, যত দ্রুত সম্ভব বিচারকাজ হোক। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সব সময় লক্ষ্য করছেন, দেখভাল করছেন এবং আমাদের প্রতি নজর রাখছেন, আমরা কী করছি না করছি। আমরা আশাবাদী, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চলে এলে, আইনের আওতায় চলে গেলে দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ হবে।

কুমিল্লার ঘটনার পেছনে যোগসূত্র হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যারা প্রকৃতপক্ষেই আমাদের (স্বাধীনতাযুদ্ধের) বিরুদ্ধে কাজ করেছে, যারা আজও বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারে না, তাদের কাজ এটা হতে পারে। আরেকটা পক্ষ হতে পারে, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে, অথবা বিভিন্ন সময় গ্রেনেড হামলা করে অনেক লোককে হত্যা করেছে, অথবা ২০১৩-১৪ সালে মানুষকে গানপাউডার দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলেছে। মনে করিয়ে দিতে চাই, একই দিনে একই সময়ে দেশের ৬৩টি জেলায় একসঙ্গে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তারা কারা? তাদের চিনতে ভুল করব না। আমরা তাঁদের সুযোগ দেব না। তারা যাতে ভবিষ্যতে এই সুযোগ না পায়, সে জন্য আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফের সঞ্চালনায় সভায় পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ইসলামি বক্তা আবদুল মোমিন সিরাজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মো. ফজলুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহা. শামশুজ্জোহা, জেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি জুনায়েদ আল হাবিবি, একাডেমি মসজিদের খতিব বশির উদ্দিন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মার্টিন হীরক চৌধুরী, জেলা পুরোহিত-ব্রাহ্মণ ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেবেন্দ্রনাথ দোবে বাবুলাল ও সাধারণ সম্পাদক নিশিত চক্রবর্তী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © All rights reserved © 2022 Jagoroni Tv
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com