সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

দেশের তালিকায় শীর্ষে চীন-যুক্তরাষ্ট্র কার্বন নিঃসরণকারী

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৫ Time View
দেশের তালিকায় শীর্ষে চীন-যুক্তরাষ্ট্র কার্বন নিঃসরণকারী
দেশের তালিকায় শীর্ষে চীন-যুক্তরাষ্ট্র কার্বন নিঃসরণকারী

জলবায়ু নিয়ে করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে বর্তমান বিশ্বে সবথেকে বেশি আলোচনা হচ্ছে । আধুনিক বিশ্বের সবথেকে বড় অভিশাপের নাম এখন কার্বন নিঃসরণ। জলবায়ু নিয়ে কথা উঠলেই সবার আগে যে শব্দটি সামনে আসে তা হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ। অথচ হাতেগোনা কয়েকটি দেশের উচ্চাভিলাষী আচারণের জন্যই সমগ্র বিশ্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া। এদের পরপরই কার্বন নিঃসরণে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় আছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ।

আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির মতে, চীন একাই এক চতুর্থাংশ কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। চীনের মূল লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের শক্তি উৎপাদনের ২৫ শতাংশ আসবে ফসিলজাত নয় এমন জ্বালানি থেকে। প্রধানত কয়লা নির্ভরতার কারণে তাদের কার্বন নির্গমন এখনও বাড়ছে। এভাবে কার্বন নিঃসরণ বাড়তে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণে চীন সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌছাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

যদিও আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি বলছে, চীনকে যদি তার জলবায়ু সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে হয়, তাহলে তাকে ২০৬০ সালের মধ্যে কয়লার চাহিদা ৮০ শতাংশেরও বেশি কাটছাঁট করতে হবে। এ বিষয়ে চীনও মূলত একমত হয়েছে যে দেশটি ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের ঘরে নিয়ে আসবে। তবে ঠিক কিভাবে চীন কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে নামবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ক্লাইমেট একশন ট্রাকার জানিয়েছে, চীনের নেওয়া পদক্ষেপ কার্বন নিঃসরণ কমাতে যথেষ্ট নয়। চীন যেভাবে কার্বন নিঃসরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে এতে করে অন্য রাষ্ট্রগুলো যদি চীনের সাথে যোগ দেয় তবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে অনেক উপকূলীয় দেশই পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।

চীনের পরপরই কার্বন নিঃসরণের তালিকার শীর্ষস্থানে যুক্তরাষ্ট্র জায়গা দখল করে আছে। দেশটির শক্তি উৎসের ৮০ শতাংশই আসে ফসিলজাত জ্বালানি থেকে। যদিও জনগণের চাপে দেশটি দিনকে দিন গ্রিন এনার্জির দিকে আগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে ২০৫০ সালের মধ্যে তারা কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামাবে। তবে ক্লাইমেট একশন ট্রাকারের মতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়া কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা আরও বৃদ্ধি করতে হবে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বছরে ৩ হাজার ৩০৪ মেগা টন কার্বন নিঃসরণ করে। যদিও তারাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দায়মুক্তির জন্য ২০৫০ সালকে তাদের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে বেধে দিয়েছে তবে সেটাকেও অনেকটা আশায় গুঁড়েবালি হিসেবে দেখছে ক্লাইমেট একশন ট্রাকার।

এশিয়া মহাদেশে চীনের পরে কার্বন নিঃসরণে শীর্ষস্থানে আছে ভারত। দেশটির কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বছরে ২ হাজার ৫৯৭ মেগা টন। বিগত ২০ বছরে দেশটিতে কার্বন নিঃসরণের পরিমান ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও একইভাবে ভারতের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে নির্গমনের মাত্রা ৩৩-৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনা। দেশটি অঙ্গীকার করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের বিদ্যুৎ শক্তির ৪০ শতাংশ আসবে ফসিলজাত নয় এমন জ্বালানি থেকে।

অন্যদিকে রাশিয়া প্রতি বছর ১ হাজার ৭৯২ মেগা টন কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। যদিও সোভিয়ত ইউনিয়নের পতনের পরে রাশিয়াতে কার্বন নিঃসরণের হার তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। তবে ক্লাইমেট একশন ট্রাকার বলছে নিঃসরণের হার শূন্যে নামাতে রাশিয়া যেসকল পদক্ষেপ নিচ্ছে সেগুলো যথেষ্ট নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © All rights reserved © 2022 Jagoroni Tv
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com