বাংলাদেশ 

উত্তরায় যুবলীগের নাম বিক্রি করে হাসপাতালে দালাল চক্র, রোগীদের কান্নায় কাঁদে মানবতা – ১ম পর্ব

যোবায়ের হোসাইন : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সাধারন ও মুমূর্ষ রোগীদের জীবন নিয়ে খেলাধুলায় মেতে উঠেছে রাজনৈতিক পরিচয়ে বেড়ে ওঠা এক শ্রেণেীর দালাল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বল্প খরচে ভালো ও সুচিকিৎসার জন্য মধ্যে ও নিম্ন আয়ের ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সাধারন ও মুমূর্ষ স্বজনদের নিয়ে আসেন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে নির্ধারিত সিটের বেশী রোগী গ্রহন না করায়, এক ঘিরে গড়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিচয়ে বৃত্তাকার দালাল চক্র। রাজনৈতিকভাবে এদের কোন পরিচয় না থাকলেও রাজনৈতিক শক্তিতে বলিয়ান চক্রটি। হাসপাতালে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগ থেকে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। দালালরা তাদের চুক্তি ভিত্তিক ব্যক্তি মালিকানা ( প্রাইভেট ) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন রোগীদের। রোগী প্রতি দালালদের দেওয়া হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এই টাকা ৫ থেকে ৬ টি স্থরে ভাগবাটোয়ারা হয়ে থাকে বলে জানা যায়। দালালদের খপ্পড়ে অজান্তে পা দিয়ে অধিকাংশ রোগীই হাসপাতালের ব্যয়বহুল বেড ভাড়া, ডাক্তার ফি, নির্ধারিত ফার্মেসির ওষুধের মূল্য, ঘন্টা প্রতি ৩শ টাকা অক্সিজেন বিল, প্যাথলজির অগনিত পরিক্ষার বিলসহ নানা রকমের বিল পরিশোধে ঘর – বাড়ী, জায়গা – জমি বিক্রি করেও সুস্থ হতে পারেন না, পরিশেষে রেফার্ড হতে হয় সরকারি হাসপাতালে। প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইন এর সরেজমিন অনুসন্ধানে যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে তা রীতিমতো চমকে ওঠার মতো। দালাল চক্রের মূলহোতা ‘শাহাদাত হোসেন সোহাগ’ উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৮ মাস আগেও পরিচ্ছন্ন কর্মি ছিলেন। এখন সে উত্তরা পশ্চিম থানা যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। তার অহংকার এতটাই ঊর্ধ্বগামী যে, তিনি নিজেকে ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী দাবি করেন। রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। হাসপাতালটির জরুরী বি

ভাগ, নিরাপত্তাগার্ডসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারিরা তার কথায় কর্ণপাত না করিলে প্রকাশ্যে মারধর করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সরেজমির অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালটির নিরাপত্তা কর্মী মোঃ খোকন এক করোনা রোগীকে সোহাগ কর্তৃক পরিচালিত দালালদের অনুমতি ব্যাতীত আল আশরাফ হাসপাতালে পাঠানোর কারনে তাকে নির্মমভাবে পিটানোর হয়। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী খোকন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমাদের পারিবারিক সমস্যা। এ বিষয়ে প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইন দালাল চক্রের মূলহোতা সোহাগের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি হুমকি সূরে বলেন, আমি ক্লিনার না, এটেন্ডেন্ড ছিলাম, আমি ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী। কে এই শাহাদাত হোসেন সোহাগ : তার গ্রামের বাড়ী ফেনী জেলায়। সোহাগ উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চুক্তি ভিত্তিক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারি সরবরাহ কোম্পানী বিল্ডার্স কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন কর্মচারি ছিলেন। হাসপাতালে ৩ বছর পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজ করে নিজেই গড়ে নিয়েছেন ব্যক্তি মালিকানা ( প্রাইভেট ) হাসপাতালে রোগী বিক্রির দালাল কোম্পানী। এই দালাল কোম্পানী উত্তরার ৬ টি ব্যক্তি মালিকানা হাসপাতালে রোগী প্রেরণ করেন। এসব হাসপাতালের মধ্যে অন্যতম হল, লেকভিউ, আল আশরাফ, শিন শিন জাপান, লুবানা ও হাই কেয়ার ভূক্তভোগী রোগীদের করুন অবস্থায় কাঁদে মানবতা: সাইফুল নামে এক ব্যক্তি গাজীপুর থেকে করোনায় আক্রান্ত বড় ভাইকে নিয়ে এসেছেন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল ও হাসপাতালে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দালালদের রসালো কথায় তাকে নিয়ে যেতে বাধ্য হন, উত্তরা ১১ নং সেক্টরের লেকভিউ ক্লিনিকে। (চলবে)

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment