জেলা সংবাদ 

মোরেলগঞ্জে জমিজমার ইনকাম যাচ্ছে থানা কোট-কাচারি, অতিষ্ঠ কয়েকটি পরিবার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষে বিভিন্ন মামলায় অতিষ্ঠ কয়েকটি পরিবার। সূত্রে জানাগেছে, নিজ পৈত্রিক সম্পত্তির দীর্ঘ ৯০ বছর যাবৎ ভোগ দখলকরে এস, এ রেকর্ড, মাঠ জরিপ সঠিক থাকা স্বত্ত্বও জমি দাবী প্রতিবেশীর। মানছে না স্থানীয় সালিশ বিচার দফায় দফায় ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের মিমাংসা বৈঠক এড়িয়েও থেমে নেই মিথ্যা মামলা হামলাসহ বিভিন্ন নাটকীয় ষড়যন্ত্র। এমনকি আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে চলছে দখলবাজী।
স্থানীয় এমপির দেওয়া সালিশ নোটিস
স্থানীয় এমপির দেওয়া সালিশগণের নোটিস বা আপোশ মিমাংসার পদক্ষেপ উপেক্ষাকরে কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে এড়িয়ে চলছে প্রতিপক্ষ জনৈক সিদ্দিক গং। স্থানীয় লোকজন ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সূত্রে জানাযায় মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৯ নং বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কিসমত জামুয়া এলাকার মৃত কামিন উদ্দিন শেখের পুত্র মোঃ দেলোয়ার শেখ গংদের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রধরে একই এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার এর চাচাতো ভাই তাদের চাচা আতাহার শেখের পুত্র আজাহার আলী শেখ ও সিদ্দিক শেখের সাথে জমাজমি নিয়ে মামলা সহ বিভিন্ন বিরোধ চলে আসছে।
বাগেরহাট-৪ সাংসদ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেলোয়ারগংদের
এ সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে দেলোয়ারগং বাগেরহাট-৪ সাংসদ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ১২/০৮/২০ তারিখ বলইবুনিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহাজাহান আলী খানকে মিমাংসার দ্বায়িত্ব দিলে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে মিমাংসা করতে ব্যার্থ হয়। ২য় বার ৮/১০/২০ তারিখ মোরেলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ নেতা এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশ ও সংশ্লিষ্ট ইউপি আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ কবির হোসেনকে দ্বয়ীত্ব দিলে আজাহার ও সিদ্দিক গংকে নিয়ে আপোশ মিমাংসা করতে ব্যার্থ হয়।
মহামান্য আদালতের আদেশ
পরবর্তীতে জুলফিকার গংদের মিস কেস নং ১৬১/২০১৯ (মোরেলগঞ্জ) ১৪৪ ধারায় দায়েরকৃত এ মামলায় আদালত বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে ৮৬/১৯ মামলা চলমান থাকায় উভয় পক্ষকে নিজ নিজ দখলীয় জমিতে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলের জন্য আদেশ দেন। আদেশক্রমে দেখা যায় মোঃ শহিদুজ্জামান অতিঃ জেলা মেজিঃ বাগেরহাট এ জমিজমা সংক্রান্তে জুলফিকার বনাম আজাহার আবার আজাহার বনাম জুলফিকার উভয়পক্ষে মামলা চলমান রহিয়াছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এলাকাবাসীর দাবী
এ অবস্থায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য না করে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একান্ত কাম্য বলে দাবী এলাকা বাসীর। বর্তমানে বিভিন্ন নাটকীয় মামলা ও হামলার ভয়ে উপজেলার কিসমত জামুয়া গ্রামরে আনোয়ার শেখ, জুলফিকার শেখ পরিবার মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের সাথে সিদ্দিক ও আজাহারদের মামলা ও হয়রানী থেকে রেহাই পায়নি দেলোয়ার শেখের পুত্র ৯ম শ্রনীর ছাত্র রাকিব শেখ (১৫), হেমায়েত শেখের পুত্র ৮ম শ্রেনীর ছাত্র আহাদ শেখ(১৪) এদেরকে ২০ ও ১৯ বছর দেখিয়ে কাল্পনিক এ বয়স দিয়ে আসামী করা হয়েছে। এ জমিজমার মামলা ও হয়রানীর খেলায় কিসমত জামুয়া গ্রামের এ জুলফিকার বনাম সিদ্দিক এ বিরোধ স্থানীয় অপরাজনীতির স্বীকার। উভয় পক্ষ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সর্বশান্ত হওয়ার পথে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠ সমাধানের দাবী স্থানীয় অবিজ্ঞ মহলের।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment