বাংলাদেশ 

হাতে তাসবীহ ফোনে চাঁদাবাজী, রাতে ডিস্কো ও কেসিনোর মালিক মাজেদ – ( ২য় পর্ব )

যোবায়ের হোসাইন :

ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সহঃসভাপতি দাবিদার মাজেদ খাঁন ও তার ছেলে নাজিম খাঁনের বিরুদ্ধে হাতে তাসবিহ ও কথায় কথায় তাবলীগের দাওয়াত দিয়ে উত্তরার নেতাদের নামে চাঁদাবাজী ও অন্দর মহলের কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
মাজেদ খাঁনের অপরাধ প্রবনতার কৌশল তাকে উত্তরার মাফিয়া ডনের পরিচিতি এনে দিয়েছে বলে অভিযোগ এলাবাসী। ২০১৯ সালে মাদক চোরাচালান অভিযোগে মামলা, খুন, ধর্ষনসহ অপরাধের বিষয়ে অনেক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে স্বল্প সময়ের জন্য চুপষে যান অপরাধ জগতের এই ডন। শূন্য স্থান পূরণে সামনে নিয়ে আসেন বড় ছেলে নাজিমকে। ২০২০ সালে চাঁদাবাজীর দায়িত্ব বড় ছেলে নাজিমকে দিয়ে তিনি তার পূরণো অন্দর মহলের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন মাজেদ খাঁন । সহায়তা নেন ঢাকার প্রসিদ্ধ কেসিনো ব্যসায়ীদের। গ্রাহক জমাতে দারস্থ হন বেস্ট গার্ল ফ্রেন্ডদের দরবারে।

অন্দর মহলের ব্যবসায় মাজেদ খান :

মাজেদ খানের বেস্ট গার্ল ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচিত আমিনা হাসান। তাকে দিয়ে সুবিধা আদায় করিয়ে নেওয়াই ছিল তার কাজ । ২০২০ সালে কোন এক রেষ্টুরেন্টটে আমিনা হাসানকে প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইন এর সাথে একজন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এই মাফিয়া ডন মাজেদ খান । প্রতিবেদক অনেক অনুরোধ করে তার সাথে একটি সেলফি তুলেন। সেলফির ছবি ও নাম দিয়ে গুগল সার্চে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যদের তালিকায় অনুসন্ধান করলে এই নাম ও চেহারার কোন সংসদ সদস্য পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, সে তার এজন বেস্ট গার্ল ফ্রেন্ড।
বৃহস্পতিবার ( ১/৪/২০২১) সকালে আমিনা হাসানের সাথে মাজেদ খানের বিষয়ে প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মাজেদ খান একজন মেয়ে সাপ্লাইয়ার। ধনী ব্যক্তিদের কাছে মেয়ে সাপ্লাই দেওয়্ইা তার কাজ। তাকে আমি অনেক মামলা ও বিপদ থেকে বাচিয়েছি। রাজউক মার্কেটের মাদক মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি পেয়েছে আমার প্রচেষ্টায়।
মাজেদ খানের অন্দর মহলের বিষয়ে বিজয় টেলিভিশন এর উত্তরা প্রতিনিধি ও রাজউক মার্কেটের ব্যবসায়ী এম এ আজাদ প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইনকে বলেন, আমার কাছে তথ্য প্রমাণ আছে, মাজেদ খান বহু মেয়েদের ইজ্জত নষ্ট করেছে। উনি উত্তরার একজন পুরাতন অন্দর মহলের ব্যবসায়ী। যার একাধিক স্থির ছবি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত।

উত্তরার নেতাদের নামে চাঁদাবাজী ।

রাজউক মার্কেটে দোকান ক্রয় বিক্রয়ের সমপরিমান চাঁদা দিতে হয় মাজেদ খানের ছেলে নাজিম খানকে। নাজিমের দাবী, চাঁদার টাকা নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে দিতে হয় উত্তরার নেতাদের, এমনই তথ্য প্রচার করে ভূক্তভোগীদের কাছে । প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইন এর কাছে সংরক্ষিত মোবাইল ইনকামিং ভয়েস কল রয়েছে। যাতে শোনা যায়, নাজিম খান ভূক্তভোগীর কাছে চাঁদার টাকা কাদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা হবে তার একটি বিবরন। সেখানে ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মতিউল হক মতি ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুলসহ আরো কয়েকজন নেতাদের নাম উল্লেখ করেন। এ চাঁদা বাজির অভিযোগ এনে ৫-১১-২০২০ তারিখে মিন্নত ও সুমন নামে দুই ব্যক্তি মাজেদ খাঁনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ২টি সাধারন ডায়েরী করেন, মিন্নতের ডায়েরী নং ৪১৩। এবিষয়ে কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাজেদ ও তার ছেলে নাজিমের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। তাদের এসব অপকর্ম তাদের নিজস্ব বিষয়। তারা অপরাধ করলে তাদের শাস্তি অবশ্যই হবে।
উত্তরা পূর্ব থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মতিউল হক মতি এর সাথে সাক্ষাত করলে তিনি বলেন, যদি ৫শ টাকা প্রমাণ করতে পারে যে, আমি তাদের কাছ থেকে নিয়েছি, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দিব। তিনি আরো বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার নাম বিক্রি করে বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ আমার কাছে আরো অনেক এসেছে

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment