আন্তর্জাতিক 

আজ মমতার লড়াই

একসময় যিনি ছিলেন আশা-ভরসার জায়গা, তিনিই এখন প্রতিপক্ষ। চেনা মাটির দখল নিতে মরিয়া দু’জনই। আর তাতেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম। এই লড়াইয়ে এক পক্ষে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য পক্ষে বিজেপিতে যোগদানকারী শুভেন্দু অধিকারী। তাদের সম্পর্কের এই অভিঘাতই রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে নন্দীগ্রামকে ‘হট সিট’ করে তুলেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সেই হাইভোল্টেজের আসনের ভোট।

নিজের কারিশমা দিয়েই নন্দীগ্রামের ভোটে জেতার লড়াই চালাচ্ছেন মমতা। নির্বাচনী প্রচারে এক ইঞ্চি জমি ছাড়েনি তিনি। আর শুভেন্দুকে জেতাতে নন্দীগ্রামের পথে নেমেছিলেন অমিত শাহ, মিঠুন চক্রবর্তীরা। সরাসরি প্রচারে যেতে না পারলেও নির্বাচনের দিন শুভেন্দুকে সাহস জোগাতে পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদি বিজেপি দাবি করেছে, তৃতীয় দফা ভোটের প্রচারের কাজেই রাজ্যে আসবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজ্যের প্রথম দফা ভোটের পর মমতা-শুভেন্দু পরস্পরের প্রতি তীব্র বাক্যবাণ বর্ষণ করেছেন। বুধবার মমতা হুমকি দিয়েছেন ‘ভোট শেষে দেখে নেওয়ার’। আর শুভেন্দু আগেই বলে রেখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত হবে তার চিঠিপত্রের প্যাডে ‘সাবেক এমএলএ’ লেখাটা ছাপিয়ে ফেলা।

হুমকি-পাল্টা হুমকির মুখে নন্দীগ্রামের নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবারই এই আসনে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। বিকেল থেকেই মাইকে ঘোষণা শুরু করে দেয় পুলিশ। নন্দীগ্রামে ঢোকা ও বেরনোর প্রতিটি সীমানায় শুরু হয়েছে তল্লাশি। চলছে হেলিকপ্টারে নজরদারি। সব মিলিয়ে বাংলার ভোটের ‘হট সিট’ নন্দীগ্রাম চেহারা নিয়েছে দুর্গের।

পুর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক সুমিতা পান্ডে জানিয়েছেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো বুথ এলাকাতেই ১৪৪ ধারা জারি থাকে। কিন্তু নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে শুধু এটুকুই নয়, গোটা বিধানসভা এলাকাতেই ১৪৪ ধারা বজায় থাকবে। পাশাপাশি অতি সংবেদনশীল বুথগুলিতে চার ধরনের নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি বুথে থাকবে লাইভ ওয়েবকাস্টিং, সিসিটিভি, ভিডিওগ্রাফি ও পর্যবেক্ষক। এ ছাড়াও নন্দীগ্রামের ৫০ শতাংশ বুথে লাইভ ক্যামেরায় নজরদারি চলবে, যা তদারক করা হবে তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে।

মমতা ও শুভেন্দুর মতো ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর পাশে আলোচনায় রয়েছেন নন্দীগ্রামে সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও। ছাত্র রাজনীতিতে থেকে মূলধারার রাজনীতিতে এ বারই প্রথম লড়াই মীনাক্ষীর। কিন্তু তাঁর সাধারণ জীবনযাপন, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি দ্বিতীয় দফার ‘ভিআইপি’ প্রার্থীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে, ‘নন্দীগ্রামে এবারের ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা আছে। দারিদ্র, দুর্নীতি, ভাঙা রাস্তা, বেকারি, কথা না রাখা, চিকিৎসা, স্কুল-কলেজ, লকডাউন, পরিযায়ী শ্রমিক, আমফান, কাজ হারানোর কথা যেন ফিকে হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনায় থর থর করে কাঁপছে লবণ সত্যাগ্রহ, তেভাগা ও জমি আন্দোলনের ধাত্রীভূমি।… নির্বাচনী প্রচার শেষ। কয়েক ঘন্টা পরে ভোট। খালি পায়ের কৃষক, কলেজে পড়া তরুণী, ছোট্ট গুমটি নিয়ে বসা মা, ১৪ বছর আগে জমি রক্ষায় রক্তঝরা পরিবার, এমন অগুনতি মানুষ অপেক্ষায়, ভালোয় ভালোয় মিটে যাক নির্বাচন।’

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment