আন্তর্জাতিক 

রাশিয়ায় পোকার কামড়ে অসুস্থ প্রায় ১৭ হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মহামারি করোনাভাইরাসের দাপটে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। তারই মাঝে আবার নতুন ত্রাস রাশিয়ায়। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সাইবেরিয়ার একটি বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে ছেয়ে গেছে রক্তচোষা এঁটুলি পোকা। করোনার ত্রাসের মাঝেই এই ভয়ংকর এঁটুলির দাপটে তীব্র ভয় রাশিয়ার মানুষজনের মধ্যে।
তবে ভয়ের সবচেয়ে বেশি কারণ হলো এই রক্তচোষা এঁটুলি পোকার কামড়ে মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বা ভ্যাকসিন কিছুই নেই। যদিও সূত্রের খবর, এই এঁটুলি পোকার আক্রমণ প্রথম নয়। এর আগে বহুবার একই কান্ড ঘটেছে রাশিয়ায়। তবে চোখ কপালে ওঠার মতো বিষয় হলো, যতবারই এই পোকার আক্রমণ হয়, ততবারই ব্যাপক হারে মানুষ মারা যান। ২০১৫ সালে এই পোকার আক্রমণে দেড় লাখ মানুষ মারা গিয়েছেন। সূত্র মারফত জানা গেছে যে, এই এঁটুলি পোকার আক্রমণে এনসেফেলাইটিসের মতো একপ্রকার রোগ হয় রাশিয়ায়। এর জেরে গত ২০১৫ সালে প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ভয়ংকর এই পোকার সাইবেরিয়ার কাছেই ক্রাসনয়ের্স্ক এলাকায় আক্রমণে কমপক্ষে ৮ হাজার ২১৫ জন মানুষ গুরুতর অসুস্থ। সেই তালিকায় রয়েছে ২ হাজার ১২৫ শিশুও। উদ্বেগের আরও বড় কারণ হলো, এখনও অবধি কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। একে তো রাশিয়ায় বহু মানুষ এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আর একদিকে রক্তচোষ্টা এঁটুলির কামড়ে এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। এই পোকার কামড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মানুষের মস্তিস্ক। যতবারই এই পোকার আক্রমণ হয়, ততবারই ব্যাপক হারে মানুষ মারা যান। রাশিয়ার আর এক এলাকা স্ভেয়ার্ডলস্কে এই পোকার কামড়ে অসুস্থ প্রায় ১৭ হাজার ২৪২ মানুষ। যার মধ্যে শিশুই রয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ জন। এই ধরনের পোকা আদতে ঘাসের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে। কোনও একজন মানুষকে পেলেই এক্কেবারে ছেঁকে ধরে বিষাক্ত এই পোকা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত, অল্প শীতেই এঁটুলিরা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে গিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। এই মুহূর্তে রাশিয়ায় সেই ভাবে ঠান্ডাও নেই।

সূত্র: ডেইলি মেইল

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment

করোনাভাইরাস সতর্কতায়

বারে বারে হাত ধুই, হাঁচি কাশিতে রুমাল/টিস্যু ব্যবহার করি, ময়ালা হাতে হাত মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকি। সরকারী নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, ঘরে থাকি।